বিরিয়ানির হাঁড়ি লাল কাপড়ে মোড়া থাকার ইতিহাস- লেখায় ~অভ্রনীল রায়।


'বসন্ত জাগ্রত দ্বারে'- তাই প্রেমের জোয়ারে ভেসে যেতে মন চাইছে সকলেরই।চারিদিকেই প্রেম প্রেম গন্ধ।কিন্তু আমার মত সদা ভোজন প্রেমিক মানুষের কাছে অন্য কিছু না,স্রেফ এক প্লেট গরম ধোঁয়াওঠা মনভোলানো বিরিয়ানির গন্ধেই যেন দিল গার্ডেন গার্ডেন।কি আমি কী কিছু ভূল বললাম? ভূল হতেই পারি না,কারন আমার সাথে 'খাইবারপাসের' বহু ফলোয়ারই এক মত হবে বলে আমার বিশ্বাস।এই মোঘল খাবার কখন যে বাঙালির কাছে আপন হয়ে গেছে তার ধারণা নেই। এখন শহর থেকে মফস্বল সর্বত্রই রাস্তার ধারের ফুটপাত হোক বা বড় রেস্তোরাঁ এই রাজকীয় খাবারের দেখা মেলে। তাই এই বিরিয়ানি যে এখন সর্বজনগ্রাহ্য খাবার তাতে সন্দেহ থাকার কথা নয়।


তবে অনেকেই ভাবছেন আজ কী তবে 'খাইবারপাসে' বিরিয়ানির ইতিহাস নিয়ে আমরা হাজির হয়েছি।না সে বরং আজ থাক, আজ বলবো এক অন্য মজাদার এক বিষয় নিয়ে।আমরা সকলেই বিরিয়ানি খেতে গেলে দেখি এক বৃহৎআকারের হাড়ি,আর তা একটি লাল কাপড় দিয়ে মোড়া থাকে। কিন্তু হয়তো আমরা এটিকে এড়িয়ে যাই নতুবা মনে করি এই লাল কাপড় এর কোনো গুরুত্বই নেই,কিছু একটা হলেই হল।কি তাই না?

বিরিয়ানির হাঁড়ি লাল কাপড়ে মোড়া থাকার ইতিহাস



 কিন্তু আপনারা জানলে অবাক হবেন বিরিয়ানি তৈরির এই হাড়ি সে বড়-ছোট যে দোকানই হোক না কেনো এর একটা অতি গুরুত্বপূর্ণ ইতিহাস রয়েছে।সব সময় কেন লাল রঙের কাপড়ই ব্যবহার করা হয়? মানুষের ভাষার মতো রংয়েরও এক ভাষা আছে। লাল রঙ-এর ব্যবহার দেশ ভেদে আবার ভিন্ন। তবে ভারতে লাল রংকে সাধারণত ধরা হয় সৌভাগ্য, উষ্ণতার, আনন্দ-উৎসব ও ভালবাসার আবেগের এক প্রতীক হিসেবে। শুধু তাই নয়, উষ্ণ অভ্যর্থনা প্রকাশের ক্ষেত্রেও দেখবেন লাল রং ব্যবহার হয়।  কি আরো একটু গভীরে জানতে ইচ্ছে করছে না? তাহলে চলুন শুরু করা যাক।


ইতিহাসের ব্যাখ্যা থেকে জানা যায়, সম্রাট হুমায়ুনের আমলে তাঁর খাদ্য পরিবেশনের ‘দরবারি রীতি’ অনুযায়ী, রুপোলি পাত্রের খাবারগুলির জন্য লাল কাপড় আর অন্য ধাতব বা চিনামাটির পাত্রগুলিকে সাদা কাপড়ে ঢেকে নিয়ে আসা হতো। হুমায়ুন পরবর্তীকালেও মুঘল দরবারের মধ্যে এই রীতি অনুসরণ করা হয়। খাদ্য পরিবেশনের এই রীতি ও রঙের ব্যবহার লখনউয়ের নবাবরাও অনুসরণ করতেন বলে জানা যায়। সেই থেকেই বিরিয়ানির পাত্র লাল কাপড়ে ঢাকার রীতি চলে আসছে।যা এত বছরেও বদলায় নি।


তবে এ ক্ষেত্রেও মতান্তর রয়েছে। অনেকে যা মনে করেন, ইতিহাস বা ঐতিহ্যের রীতি মেনে নয়, ব্যবসার খাতিরে ক্রেতার দৃষ্টি আকর্ষণ করতেই বিরিয়ানির পাত্র লাল কাপড়ে মুড়ে রাখার চল। এর ফলে দূর থেকেই তা ক্রেতার দৃষ্টি আকর্ষণ করতে পারে বলে বিক্রেতার মার্কেটিং স্ট্র্যাটেজি। তবে ইতিহাস বা ঐতিহ্যের ব্যাখ্যা যা-ই হোক না কেন, লাল কাপড়ে মোড়া বিরিয়ানির পাত্রের সঙ্গে অসংখ্য ভোজন রসিক মানুষের একটা সম্পর্ক দীর্ঘ বেশ কয়েক দশকে তৈরি হয়ে আসছে। লাল কাপড়ে মোড়া পাত্র দেখলেই যাঁদের খিদে বেড়ে যায়, মনে পড়ে যায় শুধু বিরিয়ানির কথা। তবে বহু গ্রন্হ বা গবেষণা থেকে এটাই জানা যায়, মোঘল আমলের নবাবী কালচার ও অতিথি আপ্যায়নের প্রতীক হিসেবেই বিরিয়ানির সাথে লাল কাপরের সম্পর্ক।


তাহলে এই ইতিহাস যাদের অজানা ছিল তারা এবার থেকে বিরিয়ানির দোকানে গেলেই লাল কাপড়ে মোড়া বিরিয়ানির হাঁড়ি দেখে আমাদের কথা মনে করবেন।আর অবশ্যই শেয়ার করবেন এই তথ্য বন্ধুদের সাথে, আর কে বলতে পারে এই তথ্য শুনে আপনার বন্ধু গোটা এক প্লেট বিরিয়ানিই আপনার সাথে শেয়ার করে ফেলবে না!



8 মন্তব্যসমূহ

  1. ধন্যবাদ সকলকে। এভাবেই খাইবারপাসের সাথে থাকুন।

    উত্তরমুছুন

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

নবীনতর পূর্বতন