খাবার রুটি যখন হয়ে উঠলো এক রহস্যময় আন্দোলনের প্রতীক। লেখায়- সাম্যদর্শী

 "মহারানীর রাতের ঘুম কেড়ে নেওয়া সেই রুটির গল্প"

 'রুটি', 'চাপাতি', 'হাতরুটি', 'ফুলকা' না জানি আরো কত নামে আমাদের পাতে ওঠে আটার তৈরি এই খাবারটি যা ক্ষুধা নিবারণ করে উপমহাদেশের কোটি কোটি নর-নারীর।'খাইবার পাস'-এ সাধারণত উঠে আসে কোন খাবারের 'উৎপত্তি', 'বানানোর পদ্ধতি' কিংবা 'নামকরণের ইতিহাসের' কথা। কিন্তু আজ আমরা জানবো এমন এক ইতিহাসের 'খাবার' যা শুধু খাবারের মর্যাদায় সীমাবদ্ধ থাকেনি হয়ে উঠেছিল আন্দোলন। এক রহস্যময় আন্দোলন, হয়ে উঠেছিল ত্রাস যা ঘুম কেড়ে নিয়েছিল পুরো ব্রিটিশ সাম্রাজ্যের। হয়ে উঠেছিল একতার ও মানবতার প্রতীক। আর তার নাম ছিল 'চাপাতি আন্দোলন' কিংবা ডক্টর গিলবার্ট হ্যাডো'র ভাষায় 'THE CHUPATY MOVEMENT' 


খাবার 'রুটি' যখন হয়ে উঠলো এক রহস্যময় আন্দোলনের প্রতীক..."


1857র জানুয়ারি মাস, আর কিছুদিন বাকি ভারতের আকাশে বাতাসে মহাবিদ্রোহের ঘনঘটা ঘনিয়ে আসতে। ব্রিটিশ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির কিছু অফিসারের মনে কিন্তু তখন থেকেই কিছু সন্দেহ দানা বাঁধতে শুরু করে, যেন আশেপাশে কিছু একটা ঘটে চলেছে। সবাই চুপ কিন্তু খুব দ্রুততার সাথে কোন এক রহস্যময় কাজ ঘটে চলেছে কিন্তু সেটাযে ঠিক কী, তা তারা হাজার চেষ্টা করে ধরতে পারছেন না। কিন্তু ১৮৫৭-র মার্চেই ডক্টর গিলবার্ট ইংল্যান্ড-এ বসবাসকারী তার বোনকে চিঠি লিখে ভারতে ঘটে চলা সেই রহস্যময় ঘটনাবলীর সূচনা দিচ্ছে- "বর্তমানে এখানে কোন একটি পভীষন রহস্যময় ঘটনা ঘটে চলেছে, এবং তা ঘটে চলেছে সম্পূর্ণ ভারতবর্ষ জুড়েই"  গিলবার্ট তার বোনকে আরো লিখছেন "কেউই এর অর্থ বুঝে উঠতে পারছে না। বুঝে উঠতে পারছেনা এর উৎপত্তি কোথায়, কিংবা এর উদ্দেশ্য কী। এটা কি কোন ধর্মীয় আচার ? নাকি এর সাথে যুক্ত আছে কোন সিক্রেট সোসাইটি ? ভারতীয় পত্র-পত্রিকাগুলো শুধুমাত্র অনুমানের উপর ভিত্তি করে পাতার পর পাতা ভরাতে ব্যস্ত। তারা নানা রকম ভাবে এর মানে বের করতে সচেষ্ট। এরই নামকরণ তিনি করলেন তা 'চাপাতি মুভমেন্ট' নামে।

এই চাপাতি মুভমেন্ট প্রথমবার ব্রিটিশদের মনে ভীতির সঞ্চার করে আঠারোশো সাতান্ন সালের ফেব্রুয়ারি মাসের দিকে যখন মথুরার ম্যাজিস্ট্রেট Mark Thornhill সাহেব যখন এক সকালে তার আগ্রার অফিসে আসেন এবং দেখেন 'নোংরা এবং ছোট সাইজের, মোটা আটার তৈরি কিছু বস্তু যার থিকনেস বিস্কুটের মত' তার টেবিলে রাখা আছে। তিনি উৎসাহী হয়ে প্রশ্ন করায় জানতে পারেন তারই কোন ভারতীয় পুলিশ অফিসার এগুলি এখানে রেখে গিয়েছেন যা তিনি পেয়েছিলেন কোন এক অজ্ঞাত গ্রামের চৌকিদারের কাছ থেকে এবং সেই পুলিশ অফিসার যখন চৌকিদারকে প্রশ্ন করেন যে এগুলো সে তাকে কেন দিচ্ছে এবং এর উদ্দেশ্যই বা কি?  তার উত্তরে চৌকিদার বলেন 'এক ব্যক্তি যে কিনা জঙ্গল থেকে এসেছিল সে তাকে এগুলি দিয়েছিল এবং বলেছিল এরকম আরো চারটি চাপাতি বানিয়ে পাশের গ্রামের চৌকিদারকে দিতে এবং তাকেও একই পরামর্শ দিতে'। Thornhill যখন বিষয়টি নিয়ে অনুসন্ধান করতে যান তখন জানতে পারেন যে এসব অদ্ভুতুড়ে কাজ কর্মের মধ্যে কোন রহস্যময়তা নেই এটি একটি সাধারণ রুটি যা ওই গ্রামে এবং ভারতের প্রায় প্রত্যেকটি বাড়িতেই তৈরি হয় এবং এর মধ্যে কোন সিক্রেট কোড ও নেই কিন্তু কিছুদিনের মধ্যেই কর্নেল সাহেবের টনক নড়ে যখন তিনি খোঁজ পান যে এই ধরনের রুটি শুধু তার ম্যাজিস্ট্রেট পদের আওতাধীন অঞ্চলের মধ্যেই নয় গোটা ভারতবর্ষে জুড়ে এইরকম হাজার হাজার চাপাতি এক হাত থেকে অন্য হাত হয়ে হাজার হাজার মাইল পথ পাড়ি দিচ্ছে অবিশ্বাস্য রকমের অল্প সময়ের মধ্যে । এবং পরিণত হচ্ছে এক নিশ্চুপ আন্দোলনে যা ছিল নামহীন, রক্তহীন। দক্ষিণের নর্মদা তীরবর্তী অঞ্চল থেকে উত্তরে নেপালের তরাই অঞ্চল পর্যন্ত পথ এই চাপাতি গুলি এক এক রাতের মধ্যে পাড়ি দিয়ে ফেলত। Thornhill যখন তার বস 'জর্জ হার্ভে'কে বিষয়টির সূচনা দেন তখন তিনি ঘটনার সত্যতা যাচাই করে রিপোর্ট লিখলেন  "in Agra, calculated that a wave of chapaties was advancing across my provincie at a rate somewhere between hundred and two hundred miles a night ."

কোথাও কোথাও আবার উল্লেখ পাওয়া যায় এই চাপাতি এক রাত্তিরে তিনশো কিলোমিটার- এরও বেশি পথ পাড়ি দিত, যা কিনা ওই জামানায় সবচেয়ে দ্রুতগতির যোগাযোগ ব্যবস্থা কোম্পানির মেইল'কেও পিছনে ফেলে দেয়। কেন এবং কোথা থেকে শুরু হয়েছিল এই মুভমেন্ট কারাইবা শুরু করেছিল এই মুভমেন্ট এসব প্রশ্নের উত্তর আজও সঠিক ভাবে কিছু পাওয়া যায়নি।

খাবার 'রুটি' যখন হয়ে উঠলো এক রহস্যময় আন্দোলনের প্রতীক..."


তবে ইতিহাস নিয়ে যাদের কারবার তারা কিছু ঐতিহাসিক তথ্যের ওপর ভিত্তি করে কিছু কারণ খোঁজার চেষ্টা করে গিয়েছেন।


১. ধরা হয় মহাবিদ্রোহের আগের প্রস্তুতির জন্য, তার এক শক্ত পটভূমি তৈরীর জন্য কোন কিছু 'সিক্রেট কোড' এই চাপাতির মাধ্যমে এক গ্রাম থেকে অন্য গ্রামের কিছু হাতেগোনা বিশ্বস্ত ব্যক্তিকেই সার্কুলেট করা হতো। যা তারা পরবর্তীতে  অন্য কারোকে সার্কুলেট করতো। কিন্তু ব্রিটিশদের অনুসন্ধানীচররা এই তথ্যের সাপেক্ষে কোনো প্রমাণ পাওয়া পেতে ব্যর্থ হয়।

২.অনেক ইতিহাসকার আবার মনে করেন সেই সময় ভারতবর্ষজুড়ে কলেরার ভীষন প্রকোপ দেখা যায় এবং এবং বিভিন্ন অঞ্চলে কোম্পানির লুটতরাজ এর কারণে খাদ্যাভাব সৃষ্টি হয়, ফলে প্রচুর মানুষ খাদ্যের অভাবে মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়তে শুরু করে। তাদেরকেই খাবার পৌঁছে দেওয়ার জন্য কেউ বা কারা এই চাপাতি 'আন্দোলন' শুরু করেন। আবার অন্য একটি থিওরি বলে...

 ৩. 'মহাবিদ্রোহের সময়কার অন্যতম সুদক্ষ সেনাপতি তাতিয়া টোপি'ই এই আন্দোলনটির মাস্টারমাইন্ড ছিলেন।মূলত তারই মস্তিষ্কপ্রসূত ছিল এই চাপাতি চালান।' ধরা হয় 'তিনি এই রহস্যময় কাজের দ্বারা যেমন একদিকে ব্রিটিশ অফিসারদের দিকভ্রান্ত করতে পেরেছিলেন তেমনি, বিদ্রোহকে আরও শক্তিশালী করার জন্য বিভিন্ন সিক্রেট মেসেজ পাঠাতে পেরেছিলেন দেশের এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্তে শুধু তাই নয় এই চাপাতি মুভমেন্ট এর মাধ্যমে দেশের জনগণের মধ্যে ঐক্যের চেতনার উদ্ভব হয় যা পরবর্তী বিদ্রোহের ক্ষেত্রে জ্বালানি হিসেবে কাজ করেছিল।' 

৪.কিছু ব্রিটিশ অফিসার দাবি করেছিলেন তাতিয়া টোপি নিজের  সেনাদের সাথে যেখানে যেখানে যেতেন তার সেনাবাহিনীরা নিজেদের সাথে হাতে গড়া রুটি নিজেদের খাওয়ার জন্য নিয়ে চলত, যা বেঁচে গেলে তারা পার্শ্ববর্তী গ্রামগুলিতে বিলি করে দিত। 

শুরু হয় ধর পাকর ও, নেমে আসে অত্যাচারের ভয়াবহ দিনগুলি..


খাবার 'রুটি' যখন হয়ে উঠলো এক রহস্যময় আন্দোলনের প্রতীক..."


যদিও ব্রিটিশরা এই আন্দোলনকে থামানোর কোনো কসুর বাকি রাখেনি, তারা এর ওপরেও তাদের 'ডিভাইড এন্ড রুল' পলিসি খাটানোর চেষ্টা করে, তারা বিভিন্ন সময় রুটি/চাপাতি গুলি বাজেয়াপ্ত করে এক স্থানে জমা করে তার ওপরে গরু ও শুয়োরের রক্ত অথবা চর্বি ছিটিয়ে ঘোষণা করতেন এগুলো যে ভারতীয় পাচার করবে তাদের ধর্ম তো যাবেই, সাথে ব্রিটিশের অসীম অত্যাচারের মধ্যে দিয়েও যেতে হবে। তারা বিভিন্ন জায়গায় ধরপাকড় শুরু করে, বিভিন্ন ব্যক্তি জেরায় অনেক বক্তব্য রাখলেও তাতে এমন কিছুই উঠে আসেনি যা তারা শুনতে উদগ্রীব হয়েছিল।

কিন্তু ব্রিটিশ অফিসার রিচার্ড বার্টার-এর একটি চিঠিতে এক উল্লেখ পাওয়া যায়, এই চাপাতি মুভমেন্ট এর পাশাপাশি চাপা আওয়াজে একটি স্লোগানও চলতো "সব কুছ লাল হোগা" (সব কিছু লাল হয়ে যাবে) ইংরেজদের ভারতীয় বাহিনীর'হিন্দুস্তানি' সিপাহীরাও এই আন্দোলনে সক্রিয় অংশ নিয়েছিয়েলন তারও বহু প্রমান পাওয়া যায়।

খাবার 'রুটি' যখন হয়ে উঠলো এক রহস্যময় আন্দোলনের প্রতীক..."


'রুটি গুলির উৎপত্তিস্থল কি ? কিংবা কোথা থেকে সার্কুলেট হত এগুলি?'

তা নিয়েও রয়েছে বিভিন্ন মত। অনেকে মনে করেন এগুলি কানপুর ও তার পার্শ্ববর্তী অঞ্চলগুলিতে তৈরি হতো। আবার অনেকের ধারণা এগুলি মধ্য ভারতের মিরাট থেকেই ভারতবর্ষের প্রতিটি কোনায় ছড়িয়ে পড়ছিল। আবার এ তথ্যও পাওয়া যায় যে, এই রুটি গুলি কলকাতা ও বিহারের কিছু নির্দিষ্ট অঞ্চলে তৈরি হতো, এবং সেখান থেকেই সন্ন্যাসী, চৌকিদার, ভবঘুরে* ও দেশীয় সৈনিকদের হাতে হাতে ছড়িয়ে পড়ত দেশের এক prant থেকে আরেকপ্রান্তে।

কিন্তু এসবই ধারনা ,অনুমান। পৃথিবীর ইতিহাসে যেসব 'কি' 'কেন' 'কিভাবে'র  উত্তর আজও পাওয়া যায়নি তার মধ্যে অন্যতম হল মহাবিদ্রোহের আগে ভারতের বুকে ঘটে যাওয়া এই 'রহস্যময়' চাপাতি মুভমেন্ট। যা কেড়ে নিয়েছিল অত্যাচারী ব্রিটিশজদের রাতের ঘুম।

তাহলে..?

বুঝলেন তো ? সামান্য একটা রুটি যা কিনা আপনি তরকা, ডাল ফ্রাই, কলা, জ্যাম, দুধ, কষা মাংস, আলুর দম, কাঁচা পেয়াঁজ এর সাথে রসিয়ে খান, তা কি করে হয়ে উঠতে পারে কারোর কাছে এক ত্রাস'এর প্রতীক কিংবা এক  আন্দোলন কিংবা এক অমীমাংসিত রহস্য...

যারা বিষয়টি নিয়ে আরও জানতে ইচ্ছুক তাদের জন্য তৎকালীন কিছু ব্রিটিশ অফিসারদের চিঠি চাপাটি, এবং বক্তব্যের কিছু কিছু অংশ আসল ইংরেজিতেই তুলে ধরছি..

নর্থ-ওয়েস্ট প্রভিন্স থেকে লেখা একটি আধিকারিক চিঠির কিয়দংশ 

"I have the honour to inform you that a signal has passed through numbers of the villages in this district, the purport of which has not yet transpired…

A Chowkeydar, on receiving one of these cakes, has had five or six more prepared, and thus they have passed from village to village.… An idea has been industriously circulated that the Government has given the order."

দিল্লীর রাজদরবারে এক ব্যক্তিকে জিজ্ঞাসাবাদ করার সময় উঠে আসা কিছু তথ্য

"I did hear of the circumstance. Some people said that it was a propitiatory observance to avert some impending calamity; others, that they were circulated by the Government to signify that the population throughout the country would be compelled to use the same food as the Christians, and thus be deprived of their religion; while others again said that the chupatties were circulated to make it known that Government was determined to force Christianity on the country by interfering with their food, and intimation of it was thus given that they might be prepared to resist the attempt.


Q. Is the sending of such articles about the country a custom among the Hindoos or Mussulmans; and would the meaning be at once understood without any accompanying explanation?


A. No, it is not by any means a custom; I am 50 years old, and never heard of such a thing before."

দিল্লী থেকে লেখা একটি চিঠিতে

"It was alluded to , and it was supposed to portend some coming disturbance, and was, moreover, understood as implying an invitation to the whole population of the country to unite for some secret objective afterwards to be disclosed."

অউধ থেকে লেখা একটি চিঠির অংশ

"Some time in February 1857, a curious occurrence took place. A Chowkeydar ran up to another village with two chupatties. He ordered his fellow-official to make ten more, and give two to each of the five nearest village Chowkeydars with the same instructions. In a few hours the whole country was in a stir, from Chowkeydars flying around with these cakes. The signal spread in all directions with wonderful celerity. The magistrates tried to stop it, but, in spite of all they could do, it passed along to the borders of the Punjab. There is reason to believe that this was originated by some intriguers of the old Court of Lucknow."

এক অজ্ঞাত পরিচয় ডাক্তারের লেখা দিল্লীর রাজাকে লেখা চিঠি

"Nobody can tell what was the object of the distribution of the chupatties. It is not known who first projected the plan. All the people in the palace wondered what it could mean. I had no conversation with the King on the subject; but others talked in his presence about it, wondering what could be the object."

১৮৫৭-এ ব্রিটিশ অফিসার রিচার্ড বার্টার'এর লেখা চিঠি

"Lotus flowers and bits of goats’ flesh, so it was rumoured, were being passed from hand to hand, as well as chupatties. Symbols of unknown significance were chalked on the walls of towns; protective charms were on sale everywhere; an ominous slogan, Sub lal hogea hai (‘Everything has become red’) was being whispered.”


*ব্রিটিশভারতের প্রথমার্ধে ব্রিটিশরা ভারতে ভবঘুরে আইন পাশ করে, আসলে ব্রিটিশ বণিকরা যত তৎপর হয়ে ওঠে শিল্প বিপ্লবের ফলে তাদের দেশের বিপুল উৎপাদনকে ভারতের বাজারে বিক্রি করে মুনাফা লুঠতে, ততই দেশীয় শিল্প ধ্বংস হয়, এবং বিপুল সংখ্যক শিল্পীরা হয়ে কর্মহীন বেকার, তাদের কাছে চাষাবাদ করার মতন কোনো জমিও ছিলোনা, আর গ্রামগুলোতেও বিপুল শোষণের ফলে এক বিশাল সংখ্যার জনগন নিজের সর্বস্ব হারিয়ে রাস্তায় রাস্তায় ঘুড়ে বেড়াত, এদেরকেই বলা হত 'ভবঘুড়ে' ব্রিটিশরা আইন করে এদেরকে জেলে ঢুকিয়ে অত্যাচার চালাতো। যাতে এই সর্বহারা শ্রেণীকে তারা নিজেদের বিভিন্ন কারখানায় কিংবা গৃহকর্মে বিনা পারিশ্রমিকে নিযুক্ত করতে পারে।



5 মন্তব্যসমূহ

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

নবীনতর পূর্বতন