দিল্লির ফেমাস মহব্বত কী সরবত ও তার ইতিহাস। লেখায়-মনোসিজ কর।

দিল্লীর জামা মসজিদের সামনের গলিটা যেকোনো খাদ্য প্রেমী লোকের কাছে স্বর্গ,আর যদি সে মুঘলাই খাওয়ার খেতে পছন্দ করে ,তাহলে গলিতে ঢুকেই বাঁ হাতের প্রথমেই পরবে পৃথিবী বিখ্যাত করিমস, সেই যে শুরু হলো রাস্তার দু দিকেই একের পর এক খাওয়ার দোকান।বিভিন্ন বিখ্যাত খাওয়ার এর দোকানের পাশ পাশি বছর পচিশেক আগে উত্তর প্রদেশ থেকে আসা নওয়াব কুরেশির ছোট্ট দোকানটা আপনার চোখ এড়িয়ে যেতে পারে,কিন্তু তাঁর হাঁক ডাক আপনার কানে পৌঁছবেই।আর সেই ডাক এ সাড়া দিয়ে যদি আপনি দোকানের সামনে দাড়ান ,সাথে সাথে একটা প্লাস্টিক এর গ্লাস উঠে আসবে আপনার হাত এ।আর সেই গ্লাস এর তরল মুখে দেওয়ার সাথে সাথে প্রাণ মন দুই ই জুড়িয়ে যেতে বাদ্ধ।সেই গ্লাস এর পানীয় মুখে দিলেই বুঝতে পারবেন ছোট ছোট তরমুজের টুকরো,ঠান্ডা দুধ আর রু আফজার স্বাদ আপনাকে এক অনাবিল আনন্দ দিতে শুরু করেছে।দিল্লীর কাঠফাটা গরমে এই তরল যেনো সত্যি এক স্বর্গীয় অনুভূতির সৃষ্টি করে। একটা বড় গামলায় বরফ ,দুধ , গোলাপজল, রু আফজার মিশ্রণ,আর সাথে পরিমাণ মতো চিনি মিশিয়ে ক্রমাগত একটা হাতা দিয়ে নারা হচ্ছে ,আর সেই হাতা করেই একটা প্লাস্টিকের গ্লাস ভরে দেওয়া হচ্ছে মাত্র ১০ টাকায়,গরমের দিনে পুরনো দিল্লীর এই বিশেষ এলাকার এটা খুব ই পরিচিত দৃশ্য।

দিল্লির ফেমাস মহব্বত কী সরবত ও তার ইতিহাস।

যার কথা দিয়ে শুরু করেছিলাম ,সেই নওয়াব ভাই রুটি রুজি জোগাড়ের আশায় সিকি শতাব্দী আগে উত্তরপ্রদেশের এক গ্রাম থেকে দিল্লী শহরে এসে পৌঁছন,আর তার সাথে আসে এই অসাধারণ শরবত,ভালোবেসে যার নাম তিনি দিয়েছিলেন ' _মহব্বত কি শরবত_ ' বা ' _শরবত এ মহব্বত_ ', এই শরবতের যা স্বাদ এর থেকে যথার্থ নাম মনে হয় আর সত্যি হয়না,যারা দিল্লী তে থাকেন বা ঘুরতে গিয়ে খাওয়ার খেতে ওই এলাকায় যান,তারা অবশ্যই জানেন এই শরবতের কথা,আর যারা জানেন না,তাদের অনুরোধ দিল্লী গেলে অবশ্যই খেয়ে দেখবেন,যদি আপনাদের ভালো না লাগে,আমাকে যত খুশি গালাগাল করতে পারেন,আমি মাথা পেতে নেব।


এবার ওই বিখ্যাত ফুড স্ট্রিটের ততোধিক বিখ্যাত আর একটি খাওয়ার এর গল্প শোনাই।নওয়াব ভাই এর দোকানের পাশেই দেখবেন হাল্কা আঁচে বসানো রয়েছে ক্ষীর আর বিভিন্ন ড্রাই ফ্রুট ছড়ানো একটা বিশাল কড়াই,তাতেই রয়েছে মিশরের 'উম আলী'  ভারতীয় 'শাহী টুকরা'


কথিত আছে মিশরের নওয়াব একবার শিকার এ গিয়ে এক গ্রাম এসে পৌঁছন,সাথে পাত্র মিত্র সমেত দল বল ও বেশ ভারী। দলের সবাই ক্ষুধার্থ,তখন সেই গ্রামের এক রাঁধুনি ' উম আলী' র ওপর ভার পরে সেই দলের জন্য যথাপযুক্ত খাওয়ার এর ব্যবস্থা করার, উম আলী কি আর করবে রাজার আদেশ বলে কথা।কয়েক দিনের পাও রুটি ঘরে ছিল সেই রুটি হালকা তেল লাল করে ভেজে নিয়ে ঘনও দুধের মধ্যে ফেলে ,ওপর থেকে বিভিন্ন ড্রাই ফ্রুট ছড়িয়ে রজার সামনে ধরা হলো, রাজা খেয়ে ধন্য ধন্য করতে লাগলেন,সেই থেকে মিশরের জাতীয় মিষ্টি তে পরিণত হয়েছে এই খাওয়ার,আর রাঁধুনির নাম অনুসারে খাওয়ারের নাম ও  'উম আলী '।


এই খাওয়ার ই বাবর এর হাতে করে ভারতর্ষে আসে, ও নবাবের খানসামা দের হাতে পরে সম্রাটের রন্ধন শালায় আরো পরিমার্জন লাভ করে।আমাদের ধারণা মুঘল রা শুধুই মাংস খেতো,সেই ধারণা যে ভুলে ভরা তা রমজানের সময় পুরনো দিল্লী তে ঘুরলেই বোঝা যায়।নবাবের রাঁধুনিরা পাউরুটি কে হালকা তেল এ লাল করে ভেজে নিয়ে,আলাদা একটা পাত্রে গোলাপজল , ঘন দুধ আর বিভিন্ন ড্রাই ফ্রুট মিশিয়ে সেটাকে ঠান্ডা করতে দিতেন,তার পর সেই রুটির টুকরো গুলো মিশ্রণ এর মধ্যে চুবিয়ে হালকা আঁচে বসিয়ে রাখা হতো।এর পর টুকরো গুলো তুলে নিয়ে ওপরে মালাই ছড়িয়ে ড্রাই ফ্রুট এর ছোট ছোট টুকরো সাজিয়ে শাহী ভোজন এ পরিবেশন করা হতো,তাই নামটাও যথার্থ রাখা হয়েছে 'শাহী টুকরা '।এখন ও এক ই পদ্ধতি তে গরম গরম আঁচ থেকে তুলেই আপনার প্লেটে হাজির করা হয় এই  'শাহী টুকরো' বা 'শাহী টুকরে' ।যদি কোনো সুযোগ হয় খেয়ে জানাবেন কেমন লাগলো এই মোঘলাই মিষ্টি।

3 মন্তব্যসমূহ

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

নবীনতর পূর্বতন