বার্গারের ইতিহাস।লেখায়-অভিজিৎ সূত্রধর

 বার্গার নাম শুনলেই চোখে ভাসে- দু’টুকরো বন রুটির মাঝে... পনির, মেয়োনেজ, টমেটো ক্যাচাপ, আর মশলা দেয়া রসালো নরম মাংসের ছবি। সমগ্র বিশ্ব জুড়ে এই খাবারটি জনপ্রিয়তা এখন আকাশ ছোঁয়া।শুধু আমেরিকায় প্রতি বছর ১২ বিলিয়ন বার্গার তৈরি হয়। এমন কি এই বছরই ২০২১ সালে নেদারল্যান্ডসের ভুরথুইজেন থেকে রবার্ট ভ্যান ডি জিন তৈরি করেছেন একটি নিখুঁত বার্গার, যা গিনেস বুক অফ ওয়ার্ল্ডে সবচেয়ে দামি বার্গারের খেতাব অর্জন করেছে।বার্গারটির দাম ৫০০০ ইউরো বার্গারটিতে জাপানি ওয়াগিউ গরুর মাংস, আলাস্কা কিং ক্র্যাব, হোয়াইট ট্রাফল এবং বেলুগা ক্যাভিয়ারসহ উচ্চমানের উপাদান ব্যবহার করা হয়েছে। আজকে এই বার্গার যা মূলত হ্যামবার্গার নামে অধিক পরিচিত তার ইতিহাস নিয়ে আলোচনা করবো।

বার্গারের ইতিহাস।

হ্যামবার্গার এই কথা টা শুনলে আমাদের অনেকেরই মনে হতে পারে এটি মূলত পর্ক দিয়ে তৈরি করা হতো তবে ইতিহাস কিন্তু তেমন না বরং হ্যামবার্গার তৈরি করা হয়েছিল মূলত গরুর মাংস দিয়ে। "হ্যামবার্গার" শব্দটি এসেছে জার্মানির দ্বিতীয় বৃহত্তম শহর হ্যামবুর্গ থেকে সেখান থেকে এক সময় প্রচুর মানুষ অভিবাসী হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রে পাড়ি জমিয়েছিলো এবং তাদের তৈরি এই রেসিপি তাদের পুরনো শহরের নামে গোটা যুক্ত রাষ্ট্রে বিখ্যাত হয়ে ওঠে।


হ্যামবার্গার রেসিপির উদ্ভাবন শুরু হয়েছিল মঙ্গোলদের  হাত ধরে। এরা মধ্যযুগের মধ্য এশিয়া এবং পূর্ব ইউরোপে আক্রমণকারী একদল যাযাবর মানুষ।গ্রহণযোগ্য সূত্রমতে, তারা তাদের গরুর মাংস সওয়ারের সময় জিন এবং ঘোড়ার মধ্যে রাখতো ।এর ফলে যখন তারা দূরে কোথাও পারি দিত তখন তাদের এই মাংস গুলি জিনের চাপে নরম হয়ে যেত এবং তারা এই কাচা মাংস খেত।যখন মঙ্গলরা  জার্মানিতে খাবারটি প্রচলন করল তখন তারা স্থানীয় মশলা অর্থাৎ নিজেদের তৈরী মশলা দিয়ে গরুর মাংস মাখাতো।তারপর সেগুলোকে ভেজে ফেলতো।

তুমুল জনপ্রিয়তা প্রাপ্তির পর খাবারটি হামবুর্গ স্টেক নামে অত্যাধিক পরিচিতি লাভ করে।  মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে এই জার্মান অভিবাসীরা তাদের সাথে হামবুর্গ স্টিকের রেসিপিটি নিয়ে এসেছিল।যা সেখানে তুমুল ভাবে সারা ফেলে দেয়।পরবর্তীতে ১৮৮০ এর দশকে নিউইয়র্কের সকল রেস্তোঁরার মেনুতে স্থান করে নেয় ডিশটি। ১৯০৪ সালে সেন্ট লুইসে অনুষ্ঠিত ওয়ার্ল্ড ফেয়ারে হ্যামবার্গার স্যান্ডউইচ হিসেবে পরিচিতি লাভ করে এবং বহির্বিশ্বে ডিশটির সুনাম ছড়িয়ে পড়ে৷খুব দ্রুত ডিশটি আমেরিকার প্রতিটি রেস্টুরেন্টের মেনুকার্ডে জায়গা করে নিতে শুরু করে।যেখানে তাদের জার্মান গ্রাহকদের আকর্ষিত করার জন্য “হ্যামবুর্গ-স্টাইল আমেরিকান ফিলেট” হিসাবে ডিশটিকে বর্ণনা করা হতো।ধীরে ধীরে নামটিকে সংক্ষিপ্ত করে ‘হ্যামবার্গার’ রাখা হয়। যেটি ডিশটির জার্মান নাম ছিল।


বর্তমানে ১১৯ টি দেশের প্রায় ২৬,০০০ এরও বেশি রেস্তোরাঁসহ বিশ্বের বৃহত্তম সব রেস্তোঁরা বিলিয়ন বিলিয়ন হ্যামবার্গার সরবরাহ করছে ক্রেতাদের মাঝে। তো কি ভাবছেন বসবেন নাকি এককামোর এই সুস্বাদু খবরটি ওপর।

3 মন্তব্যসমূহ

  1. দারুন লেখা,, মধ্যবিত্তদের ফ্রান্সে বুর্জোয়া বলা হত। আর এই বুর্জোয়া কথাটি এসেছে বার্গার থেকেই। যারা আর্থিকভাবে একটু সচ্চল বা রুটির সঙ্গে বার্গার খাওয়ার সামর্থ যাদের ছিলো তাদের ফ্রান্সে বুর্জোয়া বলা হত। বিশ্বের ইতিহাসে অন্যতম বড় বিপ্লব ফরাসি বিপ্লবে নেতৃত্ব দিয়েছিল এই বুর্জোয়াই(ফরাসি বিপ্লব পৃথিবীকে সাম্য, মৈত্রী ও স্বাধীনতা এই আদর্শের সঙ্গে পরিচয় করিয়েছে)। তাই জয় বার্গার এর জয়, জয় করে বিপ্লবের জয়।

    উত্তরমুছুন

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

নবীনতর পূর্বতন